কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম

হাদীস মতে ২১ রমজান থেকে ২৯ রমজান অবধি যেকোনো বিজোড় রাতে কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজান দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ রমজান লাইলাতুল কদর হয় বলে বিজ্ঞ আলেমদের মতামত। আম্মাজান আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, “রাসূলআল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে শবে কদর সন্ধান করো।” (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য একটি হাদিসে আছে, “মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে কদর সন্ধান করো।” (সহীহ বুখারী)

শবে কদরের ইবাদত

রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বিজোর রজনীতে আমাদেরকে শবে কদর তালাশ করতে হবে। রাসূলআল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে আম্মাজান আয়েশা রাঃ শবে কদর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “হে রাসুলুল্লাহ! আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই তখন কী করব? তখন নবীজি সাঃ বলেন, তুমি বলবে, ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন—অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।” (তিরমিযি)

এর থেকে প্রমাণিত হয় যে শবে কদরের রাতে আমাদেরকে বেশি বেশি তওবা করতে হবে। আপন গুনাহের জন্য অনুতপ্ত ও অনুশোচনা করতে হবে।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত

শবে কদরের নামাজ: শবে কদরের রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়তে হবে। দুই রাকাত দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করতে হয়। এই নামাজগুলোতে কিরাত, রুকু-সেজদায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে। যাতে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করা যায়।

নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাতাই ছালাতিল লাইলাতিল কাদরি নফলে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শরিফতি– আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য শবে কদরের দুই রাকআত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম– আল্লাহু আকবর।

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম

শবে–কদরের নামাজ দুই রাকাত ও চার রাকাত করে আদায় করতে হয়। তারপর যত খুশি নফল নামাজ পড়তে পারবেন। এই নামাজের প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কদর একবার এবং সূরা ইখলাস তিনবার পড়তে হবে।
নামাজের পর নিম্নোক্ত দোয়াটি কমপক্ষে ১০০ বার পাঠ করা উত্তম
‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা–ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালাহু আকবার, লা হাওলা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল্লাহ আলিয়িল আজিম।’

শবে কদরে কুরআন তেলাওয়াত: এই রাতে বেশি বেশি কুরআন পাঠ করতে হবে। কেননা এই রাত্রে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। এছাড়া নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি দুরুদ পড়তে হবে।

শবে কদরের দোয়া

আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলআল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, শবে কদরের রাতে আমার কোন দোয়াটি পড়া উচিত?’ নবীজি সাঃ তাকে এই দোয়া পড়ার নির্দেশ দিলেন ”আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।”

অর্থঃ “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করুন।” (সুনানে ইবনে মাজা)

পরিশেষে: রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর মানুষ ক্লান্ত থাকে। শবে কদরের রাতের ইবাদত হাজার মাস ইবাদত করা সমতুল্য। তাই আমরা যেন কেউ এই রাত্রিকে অবহেলা না করি।