ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম

আমাদের প্রাত্যহিক দিনে যে নামাজ পড়তে হয় তা আমাদের উপর ফরজ। আর সঠিক নিয়ম মেনে এই সমস্ত নামাজ আমাদের পড়া একান্ত জরুরি। চার রাকাত ফরজ এবং দুই রাকাত ফরজ নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্তর্গত দুটি অংশ। চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম এবং দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম জেনে নিই-

৪ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়মঃ
চার রাকাত ফরজ নামাজে মূলত চার বারে শেষ করতে হয়। এর জন্য আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে-


প্রথম রাকাতঃ ৪ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়মঃ
সর্বপ্রথম পাক পবিত্র অবস্থায় এবং পাক-পবিত্র জায়গায় দাঁড়িয়ে চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত মনে মনে করতে হবে। আবশ্যক নয় মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পড়া।


এরপরে তাকবীরে তাহরীমা বাধার জন্য আল্লাহু আকবার বলে হাত কান বরাবর উঠিয়ে ছেলেরা পেটের উপর এবং মেয়েরা বুকের উপর হাত বাঁধবে।


এরপর ছানা পড়তে হবে। সানা হল-

O سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالِىْ جَدُّكَ وَ لَا اِلَهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ : "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।" (তিরমিজি, আবু দাউদ মিশকাত)

বাংলা অর্থ : "হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।"


থানা শেষ করে আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অন্য যেকোনো একটি সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে। এটা শেষ করে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যেতে হবে।


রুকুতে যেয়ে নিম্নোক্ত তাসবিহ টি সর্বনিম্ন তিন বার পড়তে হবে-

O سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ

বাংলা উচ্চারণ : "সুবহা-না রব্বিয়াল আ`যিম।" (তিরমিজি, আবু দাউদ)

বাংলা অর্থ : “আমার প্রভু পবিত্র ও মহামহিম।


এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে জোরে তাকবীর দিয়ে বলতে হবে "সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা" এবং সাথে সাথেই নিম্নস্বরে বলতে হবে " রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ"। এরপর সরাসরি সেজদায় চলে যেতে হবে।


সিজদায় যে নিম্নোক্ত তাজবীর সর্বনিম্ন তিনবার বলতে হবে-

O سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

বাংলা উচ্চারণ : সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা।

বাংলা অর্থ : “আমার রব্বের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করছি, যিনি সবার উপরে।”

সিজদার সংখ্যা মোট দুই টি। দুই সিজদার মাঝখানে বসে স্বল্প সময়ে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়তে হয়-

O اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ

বাংলা উচ্চারণ : "আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়া আফিনি, ওয়ারযুকনি।" (মুসলিম, মিশকাত)

বাংলা অর্থ : "হে আল্লাহ আপনি আমাকে মাফ করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে শান্তি দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।"


দ্বিতীয় রাকাতঃ ৪ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়মঃএরপর সেজদা শেষ করে সরাসরি দাঁড়িয়ে যেতে হবে। এইভাবে প্রথম রাকাতের কার্যক্রম শেষ হবে এবার দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে আবার হাত বাঁধা অবস্থাতেই পুনরায় বিসমিল্লাহ বলে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে। এরপর একইভাবে রুকু এবং সিজদা করতে হবে।


সিজদা শেষ করে এবার দাড়িয়ে না যে সরাসরি বসতে হবে। বসা অবস্থায় তাশাহুদ পাঠ করতে হবে। তাশাহুদ টি হলো-

اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَن لَّاإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ O وَرَسُولُهُ

বাংলা উচ্চারণ : "আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু, ওয়াত্‌ তাইয়িবাতু। আস্‌সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্‌সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু।"

বাংলা অর্থঃ "কি মৌখিক,কি দৈহিক,কি আর্থিক সকল ইবাদাত এক মাত্র আল্লাহ’র জন্য/সমস্ত সম্মানজনক সম্বোধন আল্লাহর জন্যে।সমস্ত শান্তি কল্যাণ ও পবিত্রার মালিক আল্লাহ। হে নবী, আপনার উপর আল্লাহ’র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সোয়ালেহিন(আমাদের উপর এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর আল্লাহ’র শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন ইলাহ নেই,আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহ’র বান্দা ও রাসুল।"

এর মাধ্যমে আপনি দ্বিতীয় রাকাতের কার্যক্রম শেষ করবেন।


তৃতীয় রাকাতঃ তাশাহুদ শেষ করে সরাসরি দাঁড়িয়ে হাত পুনরায় বাধতে হবে এবং পুনরায় বিসমিল্লাহ বলে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। সূরা ফাতিহা শেষ করে সরাসরি রুকু এবং সিজদা করতে হবে। এবং সিজদা শেষ করে আপনাকে আবার সরাসরি দাঁড়িয়ে যেতে হবে। পুনরায় একইভাবে বিসমিল্লাহ এবং সূরা ফাতিহা পড়ে রুকু এবং সেজদা শেষ করে এবার বসতে হবে।

এর মাধ্যমে আপনি সালাতের শেষ রাকাতে পৌঁছে গেলেন।

চতুর্থ ও শেষ রাকাতঃ ৪ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়মঃএবার আপনাকে বসা অবস্থা তেই পরপর তিনটি দোয়া পড়তে হবে। সর্বপ্রথম তাশাহুদ, দ্বিতীয়ত দরুদ শরীফ এবং সর্বশেষে দোয়া মাসুরা পড়তে হবে। দোয়াটি পড়া শেষ করে আপনাকে ডানে বামে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হবে।

তাশাহুদ:

اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَن لَّاإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ O وَرَسُولُهُ

বাংলা উচ্চারণ : "আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু, ওয়াত্‌ তাইয়িবাতু। আস্‌সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্‌সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু।"
***তাশাহহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।

তবে তাশাহহুদের বাক্য ও আঙুল দিয়ে ইশারা করার বিষয়ে অন্য নিয়মও ইমামদের বক্তব্যে দেখা যায়। তাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।

দরুদ শরীফ :

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ ~ اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ


বাংলা উচ্চারনঃ "আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ।"

বাংলা অনুবাদঃ "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ রহমত/প্রশংসা অবতীর্ণ কর যেইরূপ রহমত/প্রশংসা হযরত ইব্রাহিম এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।"

দোয়া মাসুরা :

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمْاً كَثِيْراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

বাংলা উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসি যুলমান কাসিরা । ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফির লি । মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা । ওয়ার হামনি । ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম ।"

বাংলা অর্থঃ "হে আল্লাহ ! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি, গুনাহ মাফকারী একমাত্র আপনিই । অতএব আপনি আপনা হতেই আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন । নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু ।"


উপরোক্ত দলসমূহের পড়ে ডানে বামে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে চার রাকাত ফরজ নামাজ শেষ হবে। 4 রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম অনুযায়ী আমরা নামাজ আদায় করব।

২ রাকাত ফরজ নামাজের নিয়মঃ

প্রথম রাকাতঃ ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম
সর্বপ্রথম পাক পবিত্র অবস্থায় এবং পাক-পবিত্র জায়গায় দাঁড়িয়ে দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ত মনে মনে করতে হবে। আবশ্যক নয় মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পড়া।


এরপরে তাকবীরে তাহরীমা বাধার জন্য আল্লাহু আকবার বলে হাত কান বরাবর উঠিয়ে ছেলেরা পেটের উপর এবং মেয়েরা বুকের উপর হাত বাঁধবে।


এরপর ছানা পড়তে হবে। সানা হল-

O سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالِىْ جَدُّكَ وَ لَا اِلَهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ : "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।" (তিরমিজি, আবু দাউদ মিশকাত)

বাংলা অর্থ : "হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।"


থানা শেষ করে আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অন্য যেকোনো একটি সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে। এটা শেষ করে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যেতে হবে।


রুকুতে যেয়ে নিম্নোক্ত তাসবিহ টি সর্বনিম্ন তিন বার পড়তে হবে-

O سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ

বাংলা উচ্চারণ : "সুবহা-না রব্বিয়াল আ`যিম।" (তিরমিজি, আবু দাউদ)

বাংলা অর্থ : “আমার প্রভু পবিত্র ও মহামহিম।



এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে জোরে তাকবীর দিয়ে বলতে হবে "সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা" এবং সাথে সাথেই নিম্নস্বরে বলতে হবে " রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ"। এরপর সরাসরি সেজদায় চলে যেতে হবে।


সিজদায় যে নিম্নোক্ত তাজবীর সর্বনিম্ন তিনবার বলতে হবে-

O سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

বাংলা উচ্চারণ : সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা।

বাংলা অর্থ : “আমার রব্বের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করছি, যিনি সবার উপরে।”

সিজদার সংখ্যা মোট দুই টি। দুই সিজদার মাঝখানে বসে স্বল্প সময়ে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়তে হয়-

O اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ

বাংলা উচ্চারণ : "আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়া আফিনি, ওয়ারযুকনি।" (মুসলিম, মিশকাত)

বাংলা অর্থ : "হে আল্লাহ আপনি আমাকে মাফ করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে শান্তি দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।"


দ্বিতীয় রাকাতঃ ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম


সিজদা শেষ করে আপনাকে সরাসরি দাঁড়িয়ে যেতে হবে এবং পুনরায় বিসমিল্লাহ- র সহিত সূরা ফাতিহা এবং অপর একটি সূরা পাঠ করে পুনরায় রুকু সিজদা করে বসতে হবে। এবং সরাসরি তাশাহুদ, দরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে ডানে বামে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হবে।



তাশাহুদ টি হলো-

اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَن لَّاإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ O وَرَسُولُهُ

বাংলা উচ্চারণ : "আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু, ওয়াত্‌ তাইয়িবাতু। আস্‌সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্‌সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু।"

বাংলা অর্থঃ "কি মৌখিক,কি দৈহিক,কি আর্থিক সকল ইবাদাত এক মাত্র আল্লাহ’র জন্য/সমস্ত সম্মানজনক সম্বোধন আল্লাহর জন্যে।সমস্ত শান্তি কল্যাণ ও পবিত্রার মালিক আল্লাহ। হে নবী, আপনার উপর আল্লাহ’র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সোয়ালেহিন(আমাদের উপর এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর আল্লাহ’র শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন ইলাহ নেই,আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহ’র বান্দা ও রাসুল।"

***তাশাহহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।

তবে তাশাহহুদের বাক্য ও আঙুল দিয়ে ইশারা করার বিষয়ে অন্য নিয়মও ইমামদের বক্তব্যে দেখা যায়। তাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।

দরুদ শরীফ :

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ ~ اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ

বাংলা উচ্চারনঃ "আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ।"

বাংলা অনুবাদঃ "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ রহমত/প্রশংসা অবতীর্ণ কর যেইরূপ রহমত/প্রশংসা হযরত ইব্রাহিম এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।"

দোয়া মাসুরা :

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمْاً كَثِيْراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

বাংলা উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসি যুলমান কাসিরা । ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফির লি । মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা । ওয়ার হামনি । ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম ।"

বাংলা অর্থঃ "হে আল্লাহ ! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি, গুনাহ মাফকারী একমাত্র আপনিই । অতএব আপনি আপনা হতেই আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন । নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু ।"