ইসলামিক ধর্ম মতে মৃত ব্যক্তির জন্য যে নামাজ পড়া হয় তাকে জানাজার নামাজ বলা হয়ে থাকে। একজন ইমামের নেতৃত্বে জামাতের সহিত নামাজ আদায় করতে হয়। এই নামাজে মোট চারটি তাকবীর রয়েছে তবে কোনো রুকু-সেজদা নেই। অর্থাৎ এই নামায টি সম্পূর্ণটাই দাঁড়িয়ে থেকে আদায় করতে হয়। নিচে বিস্তারিত জানাজার নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানানো হলোঃ
- জানাজার
নামাজ আদায়ের জন্য সর্বপ্রথম পাক পবিত্র অবস্থায় ইমামের পেছনে সারিবদ্ধ
ভাবে দাঁড়াতে হবে। মনে মনে এই নিয়ত করলেও চলবে। জানাজার নামাজ ফরজে
কিফায়া। অর্থাৎ সেই মোতাবেক নিয়ত করলেও হবে।
এরপর আল্লাহু আকবার বলে কাঁধ অথবা কানের লতি পর্যন্ত হাত উত্তোলন করে হাত বাঁধতে হবে অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমা সম্পন্ন করতে হবে। তবে এরপরের তাকবীর সমূহে হাত তোলার কোন প্রয়োজন নেই। - এরপর ছানা পড়তে হবে। অবশ্য অনেকে এই সময়ে সূরা ফাতিহার পরে অন্য সূরা মিলিয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
সানা হল-
O سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالِىْ جَدُّكَ وَ لَا اِلَهَ غَيْرُكَ
বাংলা উচ্চারণ : "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।" (তিরমিজি, আবু দাউদ মিশকাত)
বাংলা অর্থ : "হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।" - এরপর আবার আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় তাকবীর
সম্পন্ন করা হবে এবং এই তাকবীরের পরবর্তীতে দরুদে ইব্রাহিম অর্থাৎ নামাজে
আমরা যে দূরুদ শরীফ পড়ে থাকিস এই দোয়াটি পড়তে হবে।
দরুদ শরীফ :
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ ~ اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ سَیِّدَنَا اِبْرَا هِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ
বাংলা উচ্চারনঃ "আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ।"
বাংলা অনুবাদঃ "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ রহমত/প্রশংসা অবতীর্ণ কর যেইরূপ রহমত/প্রশংসা হযরত ইব্রাহিম এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।" - এরপর
তৃতীয় তাকবীর ইমাম সাহেব বললে এই অংশে সূরা ইখলাসের সঙ্গে নিম্ন বর্ণিত
দোয়া সমূহ পড়তে হবে। এগুলো মূলত মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। এই দোয়াটি
মূলত নির্দিষ্টভাবে জানাযার দোয়া হিসেবেই পরিচিত।জানাজার দোয়া:لَّهُمَّ اغْفِرْلحَيِّنَاوَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَا نَا اَللَّهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلَى الاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الاْيمَانِ بِرَحْمَتِكَ يَا ارْحَمَ الرَّاحِمِيْنَবাংলা উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মাগফিরলি হাইয়্যেনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িইবিনা ও ছাগীরিনা ও কাবীরিনা ও যাকারিনা ও উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলামী ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ ফাহু আলাল ঈমান বেরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহীমিন।"তবে মৃত ব্যক্তি নাবালক ছেলে হলে নিম্নোক্ত জানাযার দোয়াটি পড়তে হবে-اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وْاَجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًاবাংলা উচ্চারন: "আল্লাহুম্মাজ আল হুলানা ফারতাও ওয়াজ আল হুলানা আজরাও ওয়া যুখরাঁও ওয়াজ আলহুলানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ্ফায়ান।"নাবালিকা মেয়ের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত জানাযার দোয়াটি পড়তে হবে-اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرْطًا وَاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًاوَاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَمُشَفَّعَةবাংলা উচ্চারন: "আল্লাহুম্মাজ আলহা লানা ফারতাও ওয়াজ আলহা লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়াজ আলহা লানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ ফায়ান।"
- এরপর চতুর্থ তাকবীর বলা হলে যথাক্রমে ডানদিকে এবং বাম দিকে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে জানাজার নামাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এইভাবে জানাজার নামাজের নিয়ম অনুযায়ী নামাজ সম্পন্ন করা যাবে।