পবিত্র কোরআনের ২ নাম্বার সূরা বাকারার ২৫৫ নাম্বার আয়াতটিই হলো আয়াতুল করসি। সবচেয়ে ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ আয়াতটি হলো আয়াতুল করসি। আল্লাহর রাসূল সা: তার উম্মতদেরকে বেশি বেশি আয়াতুল কুরসি পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা সকল ধরনের বালা-মসিফত সহ আল্লাহ তা’আলার বিশেষ রহমত রয়েছে এই আয়াতে। তাই প্রত্যেক মুসলাম নবী করিম সা: এর নির্দেশে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের ফরজ সালাতের পর একবার আয়াতুল কুরসি পড়তে। তিনি আরো বলেন, যদি কোনো নবীর উম্মত ও আল্লাহ তা’আলার বান্দা ফরজ সালাতে পর একবার আয়াতুল কুরসি পড়ে এবং সেই সালাতের পর সে মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতি। সে জান্নাতে যাচ্ছে না কারণ সে এখনো জীবিত। যদি সেই ফরজ সালাতের পর সে ইমানী ব্যক্তি মারা যেত, তাহলে সে সরাসরি জান্নাতী হতো। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে যে, আয়াতুল কুরসি কতটা ফজিলত সম্পূর্ণ সূরা। তাহলে চলুন আয়াতুল কুরসি দোয়া সম্পর্কে জানা জাক।
আয়াতুল কুরসি হলো-
“ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣَﻦ ﺫَﺍ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺸْﻔَﻊُ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﺇِﻻَّ ﺑِﺈِﺫْﻧِﻪِ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠْﻔَﻬُﻢْ ﻭَﻻَ ﻳُﺤِﻴﻄُﻮﻥَ ﺑِﺸَﻲْﺀٍﻣِّﻦْ ﻋِﻠْﻤِﻪِ ﺇِﻻَّ ﺑِﻤَﺎ ﺷَﺎﺀ ﻭَﺳِﻊَ ﻛُﺮْﺳِﻴُّﻪُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽَ ﻭَﻻَ ﻳَﺆُﻭﺩُﻩُ ﺣِﻔْﻈُﻬُﻤَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟْﻌَﻠِﻲُّ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢ “
উচ্চারণঃ ” আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বিয়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম “
বাংলা অনুবাদঃ ” আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান “ [আল কুরআন: সূরা বাকারাহ্, আয়াত ২৫৫]
উপরোক্ত আয়াতটি বা দোয়াটি হলো আয়তুল কুরসি। যদি কোনো মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিন নিয়ম মতো উক্ত আমলগুলো করে থাকে, তাহলে ইনশাল্লাহ আয়াতুল কুরসির ফজিলত দ্ধারা সে বেশ ভালোভাবে উপকৃত হবে।