পারস্যের এক প্রতাপশালী সম্রাট ছেলের শিক্ষার জন্যে তিনি একজন শিক্ষক নিয়োগ করলেন। ছেলেটির বয়স তখন অনেক বেড়ে গেছে।
একদিন শিক্ষক সম্রাটের ছেলেকে কাছে ডাকলেন। তারপর অকস্মাৎ বিনা কারণে, বিনা দোষে সম্রাটের ছেলেকে ভীষণভাবে শান্তি দিলেন। অকারণে এই শাস্তি ভোগ করায় সম্রাটের ছেলেটি শিক্ষকের ওপর দারুণভাবে রেগে গেলো। কিন্তু মুখে কিছুই বলতে পারলো না। হাজার হোক শিক্ষক তো!
কিছুদিন যেতে না যেতেই পারস্যের সম্রাট রোগে ভুগে ইন্তেকাল করলেন। পিতার ইন্তেকালের পর পারস্যের সিংহাসনে নতুন সম্রাট হিসেবে বদলো সেই ছেলেটি। সম্রাটের আসনে বসে এবার সে তার শিক্ষককে ডাকালও। যথাসময়ে শিক্ষক দরবারে এসে হাজির হলেন। পারস্যের নতুন সম্রাট তার শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলো, আপনি অমুক দিন আমাকে বিনা দোষে, বিনা কারণে শাস্তি দিয়েছিলেন কেন?
সম্রাট অপলকে তাকিয়ে আছে শিক্ষকের দিকে। বললও, তাতে কি হয়েছে? তাই বলে আপনি আমাকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেবেন?
শিক্ষক একটু হাসলেন। তার চোখে-মুখে ভয়ের লেশমাত্র নেই। জবাবে বললেন, হ্যাঁ। আপনাকে সে দিন অন্যায়ভাবে শাস্তি দিয়েছি এই জন্যে যে, আপনি যাতে করে বুঝতে পারেন- বিনা কারণে, বিনা অপরাধে কাউকে শাস্তি দিলে বা কারো ওপর জুলুম করলে তার কতোটা কষ্ট হয়। সেই কষ্টের স্বাদটা সে দিন আমি আপনাকে দিয়েছিলাম যাতে করে আপনি বুঝতে পারেন, মজলুমের কষ্টটা কতো বড় যন্ত্রণাদায়ক । আর সেই বোধ থেকেই যেন আপনি সম্রাট হয়েও কখনো কারো ওপর জুলুম এবং অন্যায়ভাবে শাস্তি না দেন।
শিক্ষকের এই নৈতিক শিক্ষা দেবার অভিনব কৌশল জেনে সম্রাট খুব খুশি হলও এবং শাস্তির পরিবর্তে অনেক মূল্যবান উপঢৌকন দিয়ে সতত তার শিক্ষককে অতি সম্মানের সাথে বিদায় জানালো।