ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

ঈদের দিন একজন মুসলিমকে বেশ কিছু কাজ ঈদের নামাজের শর্ত হিসেবে মেনে চলতে হয়। আমরা সবাই জানি যে ঈদের নামাজ ওয়াজিব। ওয়াজিব কাজ ফরজ কাজ এর মতই আবশ্যক, অর্থাৎ আমাদের সকলের জন্য ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া একান্ত কর্তব্য আর ঈদের নামাজে হিতবাদ বা জামাতবদ্ধ হয়ে পড়তে হয় তাই প্রত্যেকটি মানুষের এই মসজিদ বা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। তবে এই ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে, ঈদের নামাজের শর্ত হিসেবে বেশ কিছু নিয়ম কানুন আমাদের মেনে চলতে হয়।


ঈদের নামাজের শর্ত সমূহঃ
১. খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা এবং এই দিন রোজা রাখা সম্পূর্ণরূপে হারাম।

২. যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি গোসল করা এবং সবচেয়ে উত্তম কাপড় পরিধান করে কিছু খুশবু বা সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা।

৩. এরপর যদি ঈদুল ফিতর হয় তবে নামাজে যাওয়ার পূর্বে কিছু মিষ্টি জাতীয় খাদ্য খাওয়া এবং যদি কুরবানীর ঈদ হয় তবে কুরবানী হওয়ার পরে খাওয়া।

৪. সদকাতুল ফিতর আদায় করা অর্থাৎ অসহায় গরীব দুঃখীদের মধ্যে কিছু অর্থ নামাজের পূর্বে বিলিয়ে দেওয়া।

৫. খুব দূরে মসজিদ না হলে যত সম্ভব পায়ে হেটে মসজিদে বা ঈদগায়ে যাওয়া। এবং যেতে যেতে তাকবীর দেওয়া। যদি ঈদ-উল-ফিতর হয় তবে তাকবীর ধ্বনি ধীরে ধীরে এবং যদি কোরবানির ঈদ হয় তবে তাকবীর ধ্বনি যতটা পারা যায় উচ্চস্বরে দেওয়া।

৬. মসজিদের প্রতিবেশী বা অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে দেখা হলে তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং এবং তাদের জন্য শুভেচ্ছা প্রার্থনা করা "তাকাব্বালুল্লাহা মিন্না ওয়া মিনকুম" অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে এবং আমাকে কবুল করুন।

৭. ধীর স্থির ভাবে ঈদের নামাজের সময়সূচী মেনে মসজিদে বা ঈদগাহে যাওয়া এবং সেখানে বসে ঈদের নামাজের খুতবা শোনা। প্রত্যেকটি মুসলিম মানুষের জন্য খুতবা শোনা ওয়াজিব। তাই মনোযোগ সহকারে ঈদের নামাজের খুতবা শোনা আবশ্যক।

৮. এরপর ৬ তাকবীরের সহিত ঈদের নামাজ আদায় করা। এবং প্রতিবেশীদের সাথে কোলাকুলি এবং কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে মসজিদে ঈদের নামাজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা।

মুসলিম হিসেবে প্রতিটি মানুষেরই অপর মুসলিমের উপর কিছু হোক এবং দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। ঈদের দিন মসজিদে ঈদগাহে প্রত্যেকটি মুসলিমের সাথে অপর মুসলিমের দ্বিধাদ্বন্দ্ব হোক রেষারেষি হোক তা সমাধান হয়ে যায়। এদিন বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রতিটি মানুষ এক হয়ে ওঠে। আমরা ঈদের নামাজের নিয়ম কানুন সঠিকভাবে মেনে সালাত আদায় করব।

ঈদের নামাজের ফরজ:

ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতরের নামাজের কিছু পরিমাণ পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্যগুলো নামাজের নিয়ম এর মধ্যে নেয়া হলো। নামাজের পূর্বে করণীয়। যেমন- কোরবানির ঈদের দিন ঈদের নামাযের পূর্বে কিছু না খাওয়াটা উত্তম। অন্যদিকে ঈদুল ফিতর হলে ভোর বেলায় কিছু মিষ্টি জাতীয় খাদ্য খেয়ে নামাজে যাওয়াটা সুন্নত কাজ। অন্যদিকে ঈদুল ফিতরের নামাজ কিছুটা বিলম্বে পড়া ভালো কিন্তু ঈদুল আযহার নামাজ যতটা পারা যায় আগে পড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

এছাড়া ঈদের নামাজের ফরজ কয়টি কাজ আছে যেগুলো মুসলিম ব্যক্তির মেনে চলতে হয়। নামাজের প্রধান শর্ত আপনাকে পাক পবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে এবং নামাজের নিয়ত করতে হবে। এই ঈদের নামাজের নিয়ম কানুন এরমধ্যে ঈদের নামাজের নিয়ত এবং নিয়ম অন্যতম। ঈদের নামাজের জন্য আপনাকে ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে নিয়োগ করতে হবে। এই নিয়ত করার জন্য আপনি মুখে মুখে উচ্চারণের প্রয়োজন নেই তবে মনে মনে নিয়ত করা বা অন্তরে ধারণ করার মাধ্যমে আপনি আপনার ঈদের নামাজের নিয়ত সম্পন্ন করতে পারেন।

ঈদের নামাজের নিয়ম এবং নিয়ত হিসেবে আপনি বলতে পারেন, " আমি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে ঈদুল আযহা / ঈদুল ফিতর এর দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ৬ তাকবীর এর সহিত আদায় করছি।" এরকম কথার সাথে মিল রেখে আপনারা আপনাদের সুবিধামতো নিয়ত বানিয়ে নিতে পারেন। তবে আবারও বলছি নামাজের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে পড়তেই হবে এমনটা নয় আপনি মন থেকে অনুধাবন করার মাধ্যমে আপনার নিয়ত হয়ে যাবে।

ঈদের নামাজ পড়ার নিয়মঃ

ঈদের নামাজ একটি ওয়াজিব নামাজ। এই নামাজ জামাতে পড়ার জন্য ইসলামের নির্দেশ দেওয়া আছে। জামাত ছাড়া এই নামাজ হবে না। ছয় তাকবীরের সাথে এই নামাজ পড়তে হয়। এই নামাজ মোট দুই রাকাত।

আমরা আগেই বলেছি ঈদের নামাজ ওয়াজিব। আর ঈদের নামাযের তাকবীর সংখ্যা ৬ টি। অর্থাৎ 6 তাকবীরের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এখন চলুন দেখে নেই ঈদুল ফিতর নামাজের সঠিক নিয়ম।

ঈদুল ফিতরের নামাজ কিভাবে পড়তে হবেঃ

১. সর্বপ্রথম কাতার বদ্ধ ভাবে ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে মনে মনে নিয়ত করতে হবে। ইমাম সাহেব আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিবেন এবং হাত বাধবেন।

২. তাকে অনুসরণ করে ঠিক সেইভাবেই আমাদের কেও হাত বাধতে হবে। এরপর ছানা পড়া শেষ হলে ইমাম সাহেব "আল্লাহু আকবার" বলে হাত ছেড়ে দিবেন। তাকে অনুসরণ করে ঠিক সেভাবেও আমরাও "আল্লাহু আকবার" বলে হাত ছেড়ে দেবো। এভাবে পর পর আরো দুইবার "আল্লাহু আকবর" বলা হবে এবং শেষ বারের বেলায় হাত ছেড়ে না দিয়ে আমরা ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করে আবার হাত বাধবো।

৩. এই অবস্থায় ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে মিলিয়ে অন্য একটি সূরা পড়বেন। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতই তিনি রুকু এবং সিজদা করে প্রথম রাখার শেষ করবেন। আমরাও ঠিক তাকে অনুসরণ করে রুকু সেজদা করে প্রথম রাখার চেষ্টা করব।

৫. এরপর ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যাবেন এবং পুনরায় সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে মিলে অপর একটি সূরা পড়বেন। এরপর তিনি পরপর তিনটি তাকবীর দিবেন।

৬. এই তিনটি তাকবীরের একটি তো হাত বাঁধবেন না। আমরাও ঠিক তাকে অনুসরণ করে তিনবার তাকবীর দিয়ে হাত ছেড়ে দিব। এরপর স্বাভাবিকভাবেই "আল্লাহ হু আকবার" বলে ইমাম সাহেব কে অনুসরণ করেরুকুতে যাব।

৭. অতঃপর স্বাভাবিকভাবে সেজদা করে তাশাহুদ দুরুদ শরীফ এবং দোয়ামা সূরা পাঠ করে সালাম এর মাধ্যমে নামাজ শেষ করব।


ঈদুল ফিতরের নামাজের মতোই মুসলিম উম্মার জন্য ঈদুল আযহার নামাজ ও সঠিক নিয়ম মাফিক পড়তে হয়। ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম এবং ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম প্রায় একই। তাও আপনাদের সুবিধার জন্য ঈদুল আযহার নামাজ পড়ার নিয়ম বা কোরবানির ঈদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দেওয়া হল।

ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম:

১. সর্বপ্রথম কাতার বদ্ধ ভাবে ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে মনে মনে নিয়ত করতে হবে। ইমাম সাহেব আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিবেন এবং হাত বাধবেন।

২. তাকে অনুসরণ করে ঠিক সেইভাবেই আমাদের কেও হাত বাধতে হবে। এরপর ছানা পড়া শেষ হলে ইমাম সাহেব "আল্লাহু আকবার" বলে হাত ছেড়ে দিবেন। তাকে অনুসরণ করে ঠিক সেভাবেও আমরাও "আল্লাহু আকবার" বলে হাত ছেড়ে দেবো। এভাবে পর পর আরো দুইবার "আল্লাহু আকবর" বলা হবে এবং শেষ বারের বেলায় হাত ছেড়ে না দিয়ে আমরা ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করে আবার হাত বাধবো।

৩. এই অবস্থায় ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে মিলিয়ে অন্য একটি সূরা পড়বেন। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতই তিনি রুকু এবং সিজদা করে প্রথম রাখার শেষ করবেন। আমরাও ঠিক তাকে অনুসরণ করে রুকু সেজদা করে প্রথম রাখার চেষ্টা করব।

৫. এরপর ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যাবেন এবং পুনরায় সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে মিলে অপর একটি সূরা পড়বেন। এরপর তিনি পরপর তিনটি তাকবীর দিবেন।

৬. এই তিনটি তাকবীরের একটি তো হাত বাঁধবেন না। আমরাও ঠিক তাকে অনুসরণ করে তিনবার তাকবীর দিয়ে হাত ছেড়ে দিব। এরপর স্বাভাবিকভাবেই "আল্লাহ হু আকবার" বলে ইমাম সাহেব কে অনুসরণ করেরুকুতে যাব।

৭. অতঃপর স্বাভাবিকভাবে সেজদা করে তাশাহুদ দুরুদ শরীফ এবং দোয়ামা সূরা পাঠ করে সালাম এর মাধ্যমে নামাজ শেষ করব।

অর্থাৎ ঠিক একই নিয়ম মেনে চলে আপনি কোরবানির ঈদের নামাজের নিয়ম মোতাবেক নামাজ আদায় করে ঈদুল আযহার নামাজ পড়তে পারবেন।


ঈদের নামাজ পবিত্র মুসলিম উম্মার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঈদের নামাজের সময় একে অপরের সাথে দেখা হয় পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বন্ধ এবং তাদের মধ্যকার সমস্ত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয় নতুন করে সম্পর্কের সূচনা হয়। তাই আমরা সঠিক নিয়ম মত ঈদের নামাজ আদায় করব।